ইসলাম আমাদের জীবনকে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ এবং পরকালমুখী করার জন্য এক পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। কুরআন ও হাদিসে এমন কিছু গুণের কথা বলা হয়েছে, যেগুলো একজন মুমিনকে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারে। প্রচলিত একটি বাণীতে পাঁচ শ্রেণীর মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়, যাদেরকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না বলে বলা হয়। যদিও এই কথাগুলো হুবহু একটি সহিহ হাদিস হিসেবে পাওয়া যায় না, তবে প্রতিটি গুণই কুরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা সমর্থিত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামে এমন কিছু গুণের কথা বলা হয়েছে, যা মানুষের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হতে পারে।
👉 সত্যের পথে থেকেও ঝগড়া এড়িয়ে চলে
👉 যে চোখ আল্লাহর ভয়ে অশ্রুসিক্ত হয়
👉 অন্যের সম্মান রক্ষা করে
👉 ক্ষমা করার শক্তি থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করে
👉 ভালো কথা ছড়িয়ে দেয়
🤲 এই গুণগুলো অর্জন করার চেষ্টা করুন
📲 ভিডিওটি শেয়ার করুন—হতে পারে এটি আপনার সদকায়ে জারিয়া
💬 কমেন্টে লিখুন: আলহামদুল্লাহ
প্রথমত, সেই ব্যক্তি যে সত্যের পথে থাকা সত্ত্বেও ঝগড়া-বিবাদ পরিহার করে। ইসলাম শান্তির ধর্ম, এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও বিবাদ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি জান্নাতের এক প্রান্তে ঘরের জামিন দিচ্ছি সেই ব্যক্তির জন্য, যে হক থাকা সত্ত্বেও ঝগড়া ত্যাগ করে।” (আবু দাউদ)। এটি প্রমাণ করে যে, অহংকার ত্যাগ করে শান্তি বজায় রাখা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
আর পড়ুন ঃ
আপনি কি চান – আপনার পকেটের টাকা কখনো ফুরাবে না? তাহলে এই আমলটি করুন
আপনি কি জানেন, আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত কি?
দ্বিতীয়ত, সেই চোখ যা একান্তে আল্লাহর ভয়ে অশ্রুসিক্ত হয়। আল্লাহর ভয়ে কান্না করা একটি মহান ইবাদত। হাদিসে এসেছে, “দুটি চোখ জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না—একটি হলো যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছে।” (তিরমিজি)। এটি মানুষের অন্তরের খাঁটি ঈমানের প্রকাশ এবং আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও ভয়ের প্রতীক।
তৃতীয়ত, সেই ব্যক্তি যে বিবাদ বা মতভেদ থাকা সত্ত্বেও অন্যের সম্মান রক্ষা করে এবং গোপন বিষয় গোপন রাখে। ইসলাম গীবত, অপবাদ এবং কারো ব্যক্তিগত বিষয় ফাঁস করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।” (মুসলিম)। এটি সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসা বজায় রাখে।
চতুর্থত, সেই ব্যক্তি যে প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষমা করে দেয়। ক্ষমা করা মহান চরিত্রের পরিচয়। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “যে ক্ষমা করে এবং সংশোধন করে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে।” (সূরা আশ-শুরা: ৪০)। প্রতিশোধ নেওয়া সহজ, কিন্তু ক্ষমা করা শক্ত ঈমানের পরিচয়।
পঞ্চমত, সেই ব্যক্তি যে ভালো কথা শুনে তা নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না, বরং অন্যদের কাছে পৌঁছে দেয়। ইসলাম জ্ঞান ও ভালো কাজ ছড়িয়ে দেওয়ার উপর জোর দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও।” (বুখারি)। এটি দাওয়াতের একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
সবশেষে বলা যায়, এই পাঁচটি গুণ একজন মানুষের চরিত্রকে উন্নত করে এবং তাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে নিয়ে যায়। যদিও এই গুণগুলোকে একত্রে একটি নির্দিষ্ট সহিহ হাদিসে উল্লেখ করা হয়নি, তবে প্রতিটি গুণই ইসলাম দ্বারা সমর্থিত এবং একজন মুমিনের জীবনে অপরিহার্য। তাই আমাদের উচিত এই গুণগুলো নিজের মধ্যে গড়ে তোলা এবং অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়া।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই গুণগুলো অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।